Surgeon Dr Mostak

হার্নিয়া কী এবং কেন সার্জারি প্রয়োজন?

হার্নিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে পেটের ভেতরের কোনো অঙ্গ বা টিস্যু (যেমন অন্ত্রের অংশ) দুর্বল পেটের দেয়াল ভেদ করে বা ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এটি সাধারণত কুঁচকি (ইনগুইনাল বা ফেমোরাল হার্নিয়া), নাভি (আমবিলিকেল হার্নিয়া) বা পূর্বে অস্ত্রোপচার করা স্থানের কাছে (ইনসিসনাল হার্নিয়া) হয়ে থাকে। হার্নিয়া সব বয়সের মানুষের হতে পারে এবং এর কারণে ব্যথা, অস্বস্তি এবং ভারী জিনিস উত্তোলনে বা হাঁচি-কাশির সময় চাপ অনুভব হতে পারে।

হার্নিয়ার চিকিৎসা মূলত সার্জিক্যাল; সময়মতো অপারেশন না করালে এটি বিপজ্জনক অবস্থায় পরিণত হতে পারে, যাকে ‘স্ট্র্যাংগুলেশন’ বলা হয়। স্ট্র্যাংগুলেশন ঘটলে হার্নিয়াতে আটকে থাকা অঙ্গে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা টিস্যুর মৃত্যু এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের কারণ হতে পারে। ডা. মোস্তাক আহমেদ সকল প্রকার হার্নিয়া যেমন ইনগুইনাল, ফেমোরাল, আমবিলিকেল, স্পাইজেলিয়ান, এবং ইনসিসনাল হার্নিয়ার নিরাপদ ও কার্যকর সার্জারি প্রদানে বিশেষ পারদর্শী।

চিকিৎসা পদ্ধতি: ওপেন বনাম মিনিমালি ইনভেসিভ

হার্নিয়া সার্জারিতে দুটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:

১. ওপেন হার্নিয়া রিপেয়ার (Open Hernia Repair): এই পদ্ধতিতে হার্নিয়ার স্থানে একটি তুলনামূলকভাবে বড় ছেদ তৈরি করা হয়। সার্জন বেরিয়ে আসা টিস্যুকে পেটের ভেতরে ফিরিয়ে দেন এবং দুর্বল পেটের দেয়ালকে সেলাই করে মেরামত করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, দেয়ালের শক্তি বাড়ানোর জন্য সিনথেটিক জাল (mesh) ব্যবহার করা হয়। এটি জটিল হার্নিয়া বা পূর্ববর্তী সার্জারির ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে।

২. ল্যাপারোস্কোপিক বা মিনিমালি ইনভেসিভ হার্নিয়া রিপেয়ার (Laparoscopic Hernia Repair): এটি আধুনিক ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। এতে পেটে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে ল্যাপারোস্কোপের সাহায্যে ভেতরের দিক থেকে জাল বসিয়ে হার্নিয়া মেরামত করা হয়। এই পদ্ধতিতে ক্ষতস্থান ছোট হয়, ব্যথা কম হয় এবং রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। ডা. মোস্তাক আহমেদ তার রোগীদের দ্রুত সুস্থতা ও আরাম নিশ্চিত করতে ল্যাপারোস্কোপিক হার্নিয়া রিপেয়ারকে অগ্রাধিকার দেন, বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক (দুই দিকের) বা পুনরাবৃত্ত হার্নিয়ার ক্ষেত্রে।

রোগীর হার্নিয়ার ধরন, আকার, পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে ডা. মোস্তাক আহমেদ প্রতিটি রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা ও সার্জারি পরিকল্পনা তৈরি করেন। তার লক্ষ্য হলো, রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রেখে, স্থায়ী সমাধান প্রদান করা এবং দ্রুত কাজে ফিরিয়ে আনা। উন্নত কৌশল ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তিনি হার্নিয়া চিকিৎসায় একটি নির্ভরযোগ্য নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *