Surgeon Dr Mostak

আধুনিক সার্জারির স্বর্ণমান

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, যা মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি (MIS) বা কী-হোল সার্জারি নামেও পরিচিত। এটি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী কৌশল। ডা. মোস্তাক আহমেদ এই উন্নত পদ্ধতির সাহায্যে অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, পেটের সিস্ট ও টিউমারসহ পেটের অন্যান্য জটিল সমস্যার নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। এটি সাধারণ বা ওপেন সার্জারির তুলনায় অনেক কম আক্রমণাত্মক, যেখানে একটি বড় ছেঁদের পরিবর্তে পেটে মাত্র কয়েকটি ক্ষুদ্র (০.৫ থেকে ১.৫ সেন্টিমিটার) ছিদ্র বা কাট তৈরি করা হয়।

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মূল উপাদান হলো একটি ল্যাপারোস্কোপ; একটি সরু, নমনীয় টিউব যার ডগায় একটি উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা এবং আলো লাগানো থাকে। এই ক্যামেরা সার্জিক্যাল এরিয়ার একটি বিবর্ধিত চিত্র বাইরে রাখা মনিটরে প্রেরণ করে, যা সার্জনকে পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিষ্কারভাবে দেখতে এবং নির্ভুলভাবে অপারেশন করতে সহায়তা করে। বাকি ছিদ্রগুলো দিয়ে বিশেষায়িত সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি প্রবেশ করানো হয়।

ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির প্রধান সুবিধা

রোগীর জন্য ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির সুবিধাগুলো সুদূরপ্রসারী:

  • কম ব্যথা: যেহেতু এতে বড় কোনো কাটা-ছেঁড়া হয় না, তাই অপারেশনের পরে রোগীর ব্যথা অনেক কম হয় এবং ব্যথানাশক ওষুধের প্রয়োজনও কমে যায়।
  • দ্রুত আরোগ্য: ছোট ছেঁদের কারণে টিস্যুর ক্ষতি কম হয়, ফলে রোগী খুব দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমে ফিরে যেতে পারেন।
  • সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস: ছোট ক্ষতস্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
  • স্বল্প সময়ের জন্য হাসপাতালে অবস্থান: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীকে অপারেশনের একদিন পরেই ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়, যা চিকিৎসার খরচও কমাতে সাহায্য করে।
  • কম দাগ: অস্ত্রোপচারের পরে বড় কোনো দৃশ্যমান দাগ থাকে না, যা রোগীর মানসিক সন্তুষ্টি বাড়ায়।

ডা. মোস্তাক আহমেদ ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (পিত্তথলি অপসারণ), ল্যাপারোস্কোপিক হার্নিয়া রিপেয়ার এবং ল্যাপারোস্কোপিক অ্যাপেনডেকটমি করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান ও উচ্চ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। প্রতিটি রোগীর অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে, তিনি সবচেয়ে উপযুক্ত সার্জিক্যাল পরিকল্পনা তৈরি করেন যাতে রোগীর নিরাপত্তা ও দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগীকেন্দ্রিক যত্নই তার চিকিৎসার মূলভিত্তি। এই উন্নত কৌশলের মাধ্যমে তিনি রোগীদের জন্য আরও নিরাপদ, কার্যকর ও আরামদায়ক সার্জিক্যাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *