পিত্তথলি হলো যকৃতের (Liver) নিচে অবস্থিত একটি ছোট অঙ্গ, যার প্রধান কাজ হলো যকৃতে উৎপাদিত পিত্তরস (Bile) সংরক্ষণ ও ঘনীভূত করা। পিত্তরসের উপাদানে ভারসাম্যহীনতার কারণে পিত্তথলির ভেতরে পিত্তথলির পাথর (Gallstones) তৈরি হয়, যা কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিনের জমাট বাঁধায় সৃষ্টি হয়। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা।
পিত্তথলির পাথর যখন পিত্তনালীতে বাধা সৃষ্টি করে, তখন রোগীর তীব্র পেটে ব্যথা (Biliary Colic) হয়, যা ডান পাঁজরের নিচে অনুভূত হয়। যদি পাথর দীর্ঘ সময় ধরে বাধা সৃষ্টি করে, তবে এটি জন্ডিস, পিত্তথলির মারাত্মক প্রদাহ (Acute Cholecystitis), এবং এমনকি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (Pancreatitis)-এর মতো গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার দাবি রাখে। বারবার সমস্যা হলে বা জটিলতা দেখা দিলে সার্জারির মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ বা ‘কোলেসিস্টেকটমি’ করাই হলো একমাত্র কার্যকর ও স্থায়ী চিকিৎসা।
ডা. মোস্তাক আহমেদ পিত্তথলির পাথর ও অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি প্রয়োগে দেশের অন্যতম দক্ষ সার্জন। এটি পিত্তথলি অপসারণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রমিত কৌশল হিসেবে বিবেচিত। উন্মুক্ত (Open) সার্জারির তুলনায় এই উন্নত পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ, কম বেদনাদায়ক এবং দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করে।
ডা. মোস্তাক আহমেদের পদ্ধতির সুবিধা ও দক্ষতা:
ডা. মোস্তাক আহমেদ তার দক্ষতা কেবল সফল অপারেশনে সীমাবদ্ধ রাখেন না, বরং তিনি আধুনিক ইমেজিং ও ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগীর অবস্থা এবং পাথরের ধরন নির্ভুলভাবে নির্ণয় করেন। বিশেষ করে জটিল পিত্তথলির ক্ষেত্রে বা পিত্তনালীতে পাথর থাকার সন্দেহ থাকলে, তিনি অতিরিক্ত সতর্কতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ ও নির্ভুল অপারেশন সম্পন্ন করেন। তার লক্ষ্য হলো—রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, পিত্তথলির সমস্যা থেকে দ্রুত স্থায়ী মুক্তি দেওয়া এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং রোগীর প্রতি গভীর আন্তরিকতাই তার চিকিৎসা পরিষেবার মূল ভিত্তি।